বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা টোটা রায় চৌধুরী আজ বহু দর্শকের কাছে দক্ষ অভিনেতা হিসেবেই পরিচিত। ‘চোখের বালি’-র বিহারী চরিত্র থেকে শুরু করে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অভিনয়ে তিনি নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন। কিন্তু এই সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক কঠিন সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টোটা নিজেই জানালেন, জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য ‘চোখের বালি’ মুক্তির পরেও তাঁকে দীর্ঘ সময় কাজ ছাড়া বাড়িতে বসে থাকতে হয়েছিল। সেই সময়টা তাঁকে ভীষণ অসহায় করে তুলেছিল বলেও অকপটে স্বীকার করেন অভিনেতা।
টোটা জানান, ‘চোখের বালি’ তাঁর জীবনের এক বড় মোড় ছিল। শুধু বাংলা নয়, মুম্বই-সহ দেশের একাধিক শহরে মুক্তি পেয়েছিল ছবিটি। ঐশ্বর্য রাই, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, রাইমা সেনদের সঙ্গে সেই ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শক এবং সমালোচকদের নজর কেড়েছিল। ছবিটি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের পরেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে পরিস্থিতি একেবারেই বদলায়নি। অভিনেতার কথায়, “চোখের বালি সেনসেশনাল একটা ব্যাপার ছিল। যারা ওই ছবির সঙ্গে যুক্ত ছিল তারা প্রচুর কাজ করেছে। আমি বাড়িতে ছ’মাস বসেছিলাম।”
সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে তখন, যখন ‘চোখের বালি’ করার জন্য তাঁকে নিজের চলতি ধারাবাহিকের কাজ ছাড়তে হয়। টোটা জানান, ছবিতে কাজ করার আগে তাঁর কাছে শর্ত রাখা হয়েছিল যে সিরিয়াল করা যাবে না। ফলে টেলিভিশনের নিয়মিত কাজও বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ মাস ধরে ছবির শুটিং এবং আরও কয়েক মাস মুক্তির অপেক্ষা, সব মিলিয়ে দীর্ঘ সময় কোনও নতুন কাজ ছিল না তাঁর হাতে। তিনি বলেন, “ঋতুদা বলেছিল এখন সিরিয়াল করবি না। তাই সিরিয়ালও করতে পারিনি। ছবি রিলিজ করল, দারুণ চলল, তারপরেও ছ’মাস আমার কাজ ছিল না।”
এই সময়টা মানসিকভাবে তাঁকে ভেঙে দিয়েছিল বলেও জানান অভিনেতা। তিনি বারবার ভাবতেন, কোথায় ভুল করলেন তিনি? এত বড় ছবিতে কাজ করার পরেও কেন কাজের সুযোগ আসছে না? সেই অসহায়তার কথা একদিন সরাসরি ঋতুপর্ণ ঘোষকেও বলেছিলেন টোটা। অভিনেতার কথায়, “আমি ঋতুদাকে বলেছিলাম, সবই তো হলো, কিন্তু কাজটা বন্ধ হয়ে গেল।” তখন ঋতুপর্ণ ঘোষ নাকি মৃদু হেসে তাঁকে বলেছিলেন, “বেশি ভালো করে ফেলেছিস তোর।” এই কথার মধ্যে একদিকে যেমন প্রশংসা ছিল, তেমনই ছিল ইন্ডাস্ট্রির এক কঠিন বাস্তবতার ইঙ্গিত।
আরও পড়ুনঃ টলিউডে তোলপাড়, পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে শা’রীরিক হেন’স্থার বিস্ফো’রক অভিযোগ তুললেন অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী!
টোটা রায় চৌধুরীর এই অভিজ্ঞতা আবারও সামনে এনে দেয় বাংলা ইন্ডাস্ট্রির অনিশ্চয়তার ছবিটা। বড় সাফল্য সবসময়ই যে সঙ্গে সঙ্গে নতুন কাজের দরজা খুলে দেয়, তা নয়। অনেক সময় একজন শিল্পীকে দীর্ঘ অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক চাপে কাটাতে হয়। তবে সেই কঠিন সময়ও টোটাকে থামাতে পারেনি। বরং ধৈর্য, পরিশ্রম এবং নিজের কাজের প্রতি বিশ্বাস নিয়েই তিনি আবার ফিরে এসেছেন এবং আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয় রয়েছেন।
